বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল বনাম আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দলের ম্যাচগুলোর স্কোরকার্ড ইতিহাসে বাংলাদেশ সাধারণত এগিয়ে ছিল। অধিকাংশ ম্যাচে বাংলাদেশ শক্তিশালী বোলিং দিয়ে আয়ারল্যান্ডকে চাপে ফেলে এবং ব্যাটাররা প্রয়োজনীয় রান করে দলকে জয় এনে দিয়েছে। আয়ারল্যান্ড মাঝে মাঝে লড়াই করলেও অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ বেশিরভাগ ম্যাচেই জয় পেয়েছে।
প্রথম দিকের ম্যাচ (২০০০-২০১০ এর দশক)

১৫ এপ্রিল ২০০৭ সালে বাংলাদেশ এবং আয়ারল্যান্ডের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপ সুপার‑এাইটস পর্যায়ের একটি ম্যাচ। এই ম্যাচটি তাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম মুখোমুখি লড়াই হওয়ায় ক্রিকেট ফ্যানরা খেলাটি দেখতে খুব আগ্রহী ছিল এবং বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে এমন লড়াই দেখে দর্শকরা আনন্দ ও উত্তেজনা অনুভব করেছিল।
- ২০০৭ সালের ১৫ এপ্রিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ওয়ানডে ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ৭৪ রানে প্রথম জয়ী হয়েছিল।
- ১৫ জুলাই ২০১০ সালে বাংলাদেশ এবং আয়ারল্যান্ডের ২য় আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছিলো। যেখানে আয়ারল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী হয়েছিলো।
- ৩য় ম্যাচ হয়েছিলো ১৬ জুলাই ২০১০ সালে। এই ম্যাচে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী হয়েছিলো।
প্রথম দিকের টি টুয়েন্টি ম্যাচ
বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের প্রথম টি‑টুয়েন্টি (T20I) ছিল ২০০৯ সালের টি‑২০ বিশ্বকাপের একটি গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচ, যা ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই খেলায় দর্শকরা অনেক উত্তেজনা অনুভব করেছিল, কারণ এটি দুই দলের প্রথম টি‑টোয়েন্টি লড়াই ছিল এবং বিশ্বজুড়ে বড় টুর্নামেন্ট হচ্ছিল।
- ৮ জুন ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো দুই দল T20I‑তে মুখোমুখি হয়েছিলো এবং সেই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড জয় পেয়েছিলো।
- ১৮‑২০ জুলাই ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি‑টোয়েন্টি সিরিজ হয়েছিলো। বাংলাদেশ সবগুলো ম্যাচেই জয় পায় এবং সিরিজ ৩‑০ ব্যবধানে জিতে যায়।
- ১১ মার্চ ২০১৬ সালে এক টি‑টোয়েন্টি ম্যাচে ঘূর্ণিঝড় বা অনির্ধারিত কারণে কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।
২০১০ থেকে ২০২০ সালের ভিতর বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের টি‑টুয়েন্টি (T20I) মুখোমুখি খেলাগুলোর মধ্যে ২০১২ সালের সিরিজটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হয়েছে। এই তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ভাল ব্যাটিং ও বোলিং করেছে এবং ৩‑০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে। প্রথম ম্যাচে বড় স্কোর করেছে, দ্বিতীয় ম্যাচে খুব ঘরোয়া লড়াইয়ে জয় পেয়েছে এবং তৃতীয় ম্যাচেও ধীরে ধীরে জয় নিশ্চিত করেছে।
সাম্প্রতিক সময় (২০২০-২০২৫)

২০২০ সালের পর থেকে (প্রায় ২০২৩ ও ২০২৫ পর্যন্ত) বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দল, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেছে। এই ম্যাচগুলোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দর্শকদের উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
টি‑টুয়েন্টি (T20I) সিরিজ
- ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের টানা টি‑টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ খুব ভালো খেলেছে এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে।
- ২৯ মার্চ ২০২৩ সালে দ্বিতীয় T20I‑ম্যাচেও বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল।
- ৩১ মার্চ ২০২৩ সালে তৃতীয় T20I‑ম্যাচে আয়ারল্যান্ড জয় পায়।
সাম্প্রতিক টি‑টুয়েন্টি (T20I) সিরিজ
- ২৭ নভেম্বর ২০২৫ সালে নতুন সিরিজের ১ম T20I‑তে আয়ারল্যান্ড বাংলাদেশকে হারায়।
- ২৯ নভেম্বর ২০২৫ সালে ২য় T20I‑তে বাংলাদেশ জয় লাভ করে।
- ২ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে ৩য় T20I‑তেও বাংলাদেশ জয়ী হয় এবং সিরিজের ভালো অবস্থানে আসে।
ওয়ানডে (ODI) সিরিজ (২০২৩)
২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলেছে। এই ম্যাচ গুলোতে বাংলাদেশে দুর্দান্ত পারফর্ম দেখিয়ে ODI সিরিজের কয়েকটি ম্যাচে জয় লাভ করেছে।
টেস্ট সিরিজ (২০২৩ ও ২০২৫)

- ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড একটি টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। এই ম্যাচটি ঢাকার শের‑ই‑বাংলা ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং খেলায় বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয় পায়।
- খেলায় প্রথমে টস জিতে আয়ারল্যান্ড ব্যাট করেছে এবং দুই ম্যাচে মোট ২১৪ ও ২৯২ রান করেছে। এরপর বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ৩৬৯ রান করে এবং শেষ ম্যাচে ১৩৮/৩ রান করে জয় নিশ্চিত করে।
- মাঠে মুস্তাফিজুর রহমান রাজ ও মুশফিকুর রহিমসহ অন্যান্য খেলোয়াড়দের অবদানও ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মুশফিকুর রহিমকে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করা হয়েছিলো।
এ জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি দারুণ ও শক্তিশালী পারফরম্যান্স হিসেবে মনে রাখা হয়। কারণ বাংলাদেশ ২০২৩ সালের এই টেস্টে ভালো ব্যাটিং এবং ধারাবাহিক বোলিং করে ম্যাচটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল এবং শেষে জয় পেয়েছিল, যা তাদের জন্য বড় মঞ্চে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
শেষ কথা
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সামগ্রিকভাবে ভালো ফলাফল করেছে। সব ফরম্যাট মিলিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ বেশিরভাগ সময় ম্যাচ জিতেছে, যার ফলে জয়ের সংখ্যা আরও বেশি এবং পারফরম্যান্সও শক্তিশালী হয়েছে।
Read More: ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দল ম্যাচের স্কোরকার্ড
